কলকাতা লিগের রাউন্ড রবিন পর্বে সকলের আগে শেষ করেছিল ইস্টবেঙ্গল। কলকাতা ডার্বিতে আটকে দিয়েছিল শক্তিশালী মোহনবাগানকেও। সেই ইস্টবেঙ্গলই আটকে গেল সুপার সিক্সের প্রথম ম্যাচে। শুক্রবার নিজেদের মাঠে ইউনাইটেড স্পোর্টসের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করল তারা। ফলে কলকাতা লিগ জয়ের স্বপ্নে বড়সড় ধাক্কা খেল তারা।

বৃহস্পতিবার মোহনবাগান বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল কোল ইন্ডিয়াকে। তাদের গোলপার্থক্য এখন চার। সেখানে ইস্টবেঙ্গল একটি গোলও করতে পারল না। সুপার সিক্সে যেহেতু তিনটিই ম্যাচ, তাই প্রতিটি ম্যাচ জিতলেই শুধু হবে না, বা়ড়িয়ে রাখতে হবে গোলপার্থক্য। সেখানেই ধাক্কা খেল ইস্টবেঙ্গল। আত্মতুষ্টিই ভোগাল তাদের।

অফিসের ম্যাচে খেলার কারণে এ দিন ইস্টবেঙ্গল কোচ অর্চিষ্মান বিশ্বাস দলে রাখতে পারেননি চাকু মান্ডি, মনোতোষ মাজি, বিক্রম প্রধানদের। গোটা ম্যাচে তাঁদের অভাব ভাল মতোই টের পাওয়া গেল। রক্ষণে অঙ্কন ভট্টাচার্য বা মনোতোষ চাকলাদারেরা খারাপ খেলেননি। গোলকিপার গৌরব সাউও ভাল ফর্মে ছিলেন। কিন্তু চাকু বা বিজয় মুর্মুদের অভাব ভালই টের পাওয়া গিয়েছে ম্যাচে।

কলকাতা ডার্বিতে গোল করে রাতারাতি নায়ক হয়ে গিয়েছিলেন মহম্মদ বিলাল। এ দিনও গতিতে বার বার পরাস্ত করার চেষ্টা করেছেন বিপক্ষকে। তবে কিছুতেই ইউনাইটেডের রক্ষণ ভেঙে গোল করতে পারেননি। অনন্তু এমএস বা আকাশ হেমব্রমরাও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। এ দিন বৃষ্টি হওয়ায় মাঠ ভারী হয়ে গিয়েছিল। স্বাভাবিক পাসিং ফুটবল খেলতে সমস্যা হয়েছে দু’দলেরই।

তবু ইস্টবেঙ্গল দ্বিতীয়ার্ধে অনেক আক্রমণাত্মক খেলেছে। কিন্তু গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে সমস্যা তো হবেই। সেটাই হয়েছে লাল-হলুদের সঙ্গে। পাশাপাশি তাদের খেলায় অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসও দেখা যাচ্ছিল। সেটাও কাল হয়েছে। সঠিক ফিনিশিং করতে পারেননি কেউই। ইস্টবেঙ্গলের ক্রস সামলাতে অসুবিধায় পড়তে হয়নি ইউনাইটেডের গোলকিপার সৌরভকে। ম্যাচের পর অর্চিষ্মানের ক্ষোভ, “ডার্বিতে ড্র করার পর দলের মধ্যে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস চলে এসেছিল। তার জন্যই আজ এমন ফল হয়েছে। এখনও দুটো ম্যাচ বাকি। আমরা হাল ছা়ড়ছি না।”