সরকারি প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ধুন্ধুমার কান্ড

বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ

রাস্তায় দাঁড়িয়ে বঙ্গীয় সরকারি প্রকল্প নিয়ে বাক্যবিনিময়ের সময় আচমকা এক মহিলার শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে স্থানীয় এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে দুষ্কৃতিদের হাতে নৃশংসভাবে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় চার প্রতিবাদী যুবক। তুমুল উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। বরানগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে নির্যাতিতা মহিলা ও স্থানীয় বাসিন্দারা। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর মহকুমার বরানগর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের দেশবন্ধু নগর রোড এলাকার ঘটনা। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত আনুমানিক ৯টা নাগাদ দেশবন্ধুনগর রোডে স্থানীয় বিএলও-র সাথে এক মহিলা 'অন্নপূর্ণা যোজনা' সম্পর্কিত বিষয়ে কথা বলছিলেন। ঠিক সেই সময়ে জগজিৎ সিং নামে এক স্থানীয় দূষ্কৃতকারী পিছন থেকে এসে ওই মহিলাকে জড়িয়ে ধরে এবং শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ। ঘটনায় বিএলও এবং ওই মহিলা চিৎকার শুরু করা মাত্রই পাড়ার কয়েকজন যুবক ছুটে এসে জগজিৎ এর ওই জঘন্য আচরণের তীব্র প্রতিবাদ করে। কিন্তু পিছু হটার বদলে আরও হিংস্র হয়ে উঠে জগজিৎ তড়িঘড়ি তাঁর ঘনিষ্ঠ শিবা হেলাকে ফোন করে। জগজিৎ ও শিবা হেলার দলবল বাঁশ, লোহার রড এবং ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে এসে মুহূর্তের মধ্যে এলাকা ঘিরে ফেলে। তাঁরা প্রতিবাদী যুবকদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। দুষ্কৃতিদের এলোপাতাড়ি মারধরের জেরে মাথা ফেটে রক্তারক্তি কান্ড ঘটে এলাকায়। গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে পাড়ার তিন যুবক। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় সাগর দত্ত হাসপাতালে নিয়ে যেতেই শুরু হয় চিকিৎসা।তিনজনই সেখানে চিকিৎসাধীন। তবে একজন এর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। নির্যাতিতা মহিলার কথায়, "আমি বিএলও ম্যাডামের সঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে কথা বলছিলাম। সেই সময় হঠাৎ ওই ঘটনা ঘটে। পাড়ার দাদারা আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে ওদের ওভাবে মারধর করা হয়। আমরা আতঙ্কিত। পুলিশ অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিক।"
ঘটনায় আক্রান্ত এক যুবক জানান, "মহিলার উপর অত্যাচার হতে দেখে আমরা এগিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ করেছিলাম মাত্র। তার মূল্য দিতে হল রড, বাঁশ, ব্যাটের বাড়ি খেয়ে। জগজিৎ ও শিবা এলাকাতে প্রায়ই এই ধরনের অসামাজিক কাজকর্ম চালায়। ওদের ভয়ে এলাকাবাসীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।" ঘটনার পরই এলাকা ছেড়ে চম্পদ দিয়েছে অভিযুক্তরা। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্ত জগজিৎ সিং এবং তাঁর সহযোগীদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে বলে জানায় বরানগর থানার পুলিশ।