🌸 **আলহামদুলিল্লাহ! পবিত্র কুরআনের আলোয় আলোকিত হওয়ার পথে ১০০ ছাত্রী** 🌸

আজ জীবনতলা **আমিনিয়া মাদরাসাতুল বানাত**-এ এক মনোমুগ্ধকর, হৃদয়স্পর্শী ও বরকতময় পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো **এবতেদায়ী কুরআনুল কারীমের শুভ সূচনা অনুষ্ঠান**।

পবিত্র কুরআনের শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে আলোকিত করার লক্ষ্যে মাদরাসার **১০০ জন ছাত্রী আজ পবিত্র কুরআন শরীফের শিক্ষা গ্রহণের শুভ সূচনা** করেন। নিঃসন্দেহে এটি মাদরাসা, ছাত্রীদের অভিভাবক, শিক্ষকবৃন্দ এবং সমগ্র এলাকার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের একটি দিন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন **অল ইন্ডিয়া সুন্নত ওয়াল জামায়াতের সুপ্রিমো হযরত মুফতি আব্দুল কাইয়ুম সাহেব হুজুর**।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন **মাওলানা খলিলুর রহমান সাহেব**, সম্পাদক, ইমাম-মুয়াজ্জিন কমিটি, ক্যানিং ২ নম্বর ব্লক; **হাফেজ আব্দুর রহমান সাহেব**, ইমাম, মুখার্জি জামে মসজিদ; **মাওলানা আব্দুস সাত্তার সাহেব**, ইমাম, কালুয়াখালী জামে মসজিদ; **হাফেজ সাইফুদ্দিন সাহেব**, ইমাম, আওতাপাড়া জামে মসজিদ; **মাওলানা শাহ আলম সাহেব**, ইমাম, দারপোতা জামে মসজিদ; আমিনিয়া মাদরাসার সুযোগ্য শিক্ষকবৃন্দ এবং এলাকার বিভিন্ন বরেণ্য উলামায়ে কেরাম।

অনুষ্ঠানের এক পবিত্র ও আবেগঘন মুহূর্তে **মহামান্য মুফতি আব্দুল কাইয়ুম সাহেব হুজুরের হাত ধরে পবিত্র কুরআন শরীফ শিক্ষার শুভ সূচনা** হয়। এরপর উপস্থিত উলামায়ে কেরামগণ কুরআন-হাদিসের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ **ওয়াজ-নসিহত ও মূল্যবান দিকনির্দেশনা** প্রদান করেন।

তাঁরা বলেন, ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের কুরআন ও দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুর হাতে পবিত্র কুরআন তুলে দেওয়া মানে তার হৃদয়ে ঈমান, তাকওয়া, আদব-আখলাক ও নৈতিকতার বীজ বপন করা। কুরআনের শিক্ষা দুনিয়ার জীবনে শান্তি এবং আখিরাতের জীবনে সফলতার পথ দেখায়।

### 🌿 মাদরাসার পরিচালকের বক্তব্য

আমিনিয়া মাদরাসাতুল বানাত-এর পরিচালক **মাওলানা বাহাউদ্দিন রহমানী সাহেব** বলেন—

“দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ এবং অল ইন্ডিয়া সুন্নাত ওয়াল জামায়াত কমিটির প্রতি আস্থাশীল দানশীল ব্যক্তিবর্গ এই মাদরাসায় মুক্তহস্তে দান ও সহযোগিতা করে আসছেন। তাঁদের আন্তরিক দান ও সহযোগিতারই একটি সুন্দর ফসল হিসেবে আজ ১০০ জন ছাত্রী পবিত্র কুরআন শরীফের শিক্ষা গ্রহণের শুভ সূচনা করতে পেরেছে। আমরা তাঁদের সকলের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের আশা, ইনশাআল্লাহ, এই ছোট্ট ছোট্ট ছাত্রীরাই আগামী দিনে কুরআন-হাদিসের জ্ঞান অর্জন করে যোগ্য আলেমা ও দ্বীনের খাদেমা হয়ে উঠবে এবং নিজেদের জীবনকে ইসলামের আলোয় আলোকিত করার পাশাপাশি দ্বীন, সমাজ ও মানবতার খেদমতে নিজেদের নিয়োজিত করবে।

একটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়; এটি গোটা সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। তাই যারা এই মহৎ কাজে দান, সহযোগিতা ও শ্রম দিয়ে পাশে রয়েছেন, তাঁদের সকলের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা আশা করি, আগামী দিনেও আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

পরিশেষে তিনি সকলের কাছে দোয়ার আবেদন জানিয়ে বলেন, “আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে কবুল করেন এবং এই ১০০ জন ছোট্ট ছাত্রীকে পবিত্র কুরআনের আলোয় আলোকিত করে তাঁদেরকে দ্বীনের যোগ্য খাদেমা হিসেবে কবুল করেন। তাঁদের ইলম, আমল, আখলাক ও জীবনে বরকত দান করেন এবং তাঁদের মাধ্যমে দ্বীনের আলো সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে দেন।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে **মুফতি আব্দুল কাইয়ুম সাহেব হুজুরের দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে** এই বরকতময় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

🤲 **আপনাদের সকলের কাছে বিশেষভাবে দোয়ার আবেদন রইল।**

আল্লাহ তায়ালা যেন এই ১০০ জন ছোট্ট ছাত্রীকে কুরআনের আলোয় আলোকিত করেন, তাঁদের অন্তরকে ঈমান ও তাকওয়ায় পরিপূর্ণ করেন, উত্তম আদব-আখলাক দান করেন এবং ভবিষ্যতে তাঁদেরকে দ্বীন ও মানবতার খেদমতে কবুল করেন।

মাদরাসার সঙ্গে জড়িত সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, দাতা, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহযোগীদের আল্লাহ তায়ালা উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁদের এই সহযোগিতাকে **সদকায়ে জারিয়া** হিসেবে কবুল করুন।

🌸 **আজকের এই কুরআন শিক্ষার শুভ সূচনা হোক আগামী দিনের আলোকিত প্রজন্ম গড়ার সূচনা।**

📖 **পবিত্র কুরআনের আলো ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি হৃদয়ে।**

🤲 **আল্লাহুম্মা আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।**