পুলিশের অস্থায়ী হোমগার্ড সহ ২ জনকে গ্রেফতার করল জিআরপি

বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ

ট্রেন, বাসে পকেটমারি, ছিনতাই এর ঘটনা কারও অজানা নয়। যাত্রীরা যতই সাবধান হোক না কেন, সুযোগ বুঝে অসাধু ব্যাক্তিরা ঠিক তাঁদের কর্মকান্ড চালিয়ে যায়। এমনই এক ঘটনা ধরা পড়ে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায়।
দীর্ঘদিন যাবত চলন্ত ট্রেনে এক কথায় ডাকাতি করে চলা চক্রের খোঁজ চালাচ্ছিল জিআরপি। সূত্র মারফত খবর পেয়ে হানা দিয়ে ২ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সূত্র মারফত গতকাল গভীর রাতে বনগাঁ জিআরপি থানায় খবর আসে এই মর্মে যে, বেশ কয়েকজন যুবককে জড়ো হতে দেখা যাচ্ছে বনগাঁ রেলওয়ে স্টেশন এর বাইরে থাকা একটি পরিত্যক্ত ট্রেনের কামরার ভিতরে। খবর পাওয়া মাত্রই বনগাঁ জিআরপি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে ধরে ফেলে। তাঁদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালায় পুলিশ। পুলিশের জেরার মুখে ডাকাতির কথা শিকার করে নেয় তাঁরা। এরপরই অশোকনগর এলাকার বাসিন্দা সবুজ নন্দী ও হাবড়া বাণীপুর এলাকার বাসিন্দা ব্রিজেশ দাসকে গ্রেফতার করে বনগাঁ জিআরপি থানার পুলিশ। জানা যায়, ব্রিজেশ হাবরা থানার অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কর্মরত। সেই কাজের পাশাপাশি এই অপরাধচক্রের সঙ্গেও জড়িত ছিল সে। পুলিশের কথায়, মানি ব্যাগ, সোনার গহনা, মোবাইল ফোন, দামি ঘড়ি- চক্রটি এসবই টার্গেট করত। তাঁরা রাতের দিকেই অপারেশন চালায় বলে পুলিশের অনুমান। কারণ রাতের দিকে বেশ ভিড় থাকে বনগাঁ, দত্তপুকুর, অশোকনগর, বারাসাত লোকাল ট্রেনগুলিতে। আর সেই ভিড়ের সুযোগ নিয়ে ট্রেনের কামরায় উঠে চারিদিকে ছড়িয়ে যায় ওই চক্রের সদস্যরা। এরপর কোনও যাত্রীকে টার্গেট করলে তাঁকে ঘিরে ধরে। নানান উপায়ে তাঁর থেকে টাকা পয়সা, সোনার গয়না ছিনিয়ে ট্রেন থেকে দ্রুত নেমে যায়। এইভাবেই দীর্ঘদিন ধরে রমরমিয়ে চুরি-ডাকাতি চালিয়ে যাচ্ছিল ওই চক্র। ভিড়ের মধ্যে থাকায় যাত্রীরা বুঝতে না পারার কারণে চক্রটিকে সনাক্ত করতেও বেশ বেগ পেতে হয়েছে জিআরপি-র। গতকাল গভীর রাতে দলের সক্রিয় সদস্যরা বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে বনগাঁ স্টেশন এর ওই কামরার জড়ো হয়ে টাকা বাটোয়ারা করতে গিয়েই ঘটে বিপত্তি। ধরা পড়ে ওই দুজন। বাকিরা পলাতক। ধৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করার পাশাপাশি নিজেদের হেফাজতে নেবার আবেদন জানিয়ে বনগাঁ জিআরপি থানার পুলিশের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার ধৃতদের বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে আবেন মঞ্জুর করেন বিচারক। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে তল্লাশিও শুরু করেছে বলে জানায় পুলিশ।