*বায়োকেমিক চিকিৎসকদের মহাসম্মেলন সোদপুরে, উজ্জ্বল উপস্থিতি চিকিৎসক মহলের*

এস মন্ডল :কলকাতা : বায়োকেমিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং চিকিৎসকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে এক বিশাল আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো সোদপুরে। বায়োকেমিক চিকিৎসা দর্শন এবং বায়োকেমিক স্বাস্থ্য দর্পণের যৌথ উদ্যোগে এবং ডাঃ শ্রীবাস সেনের ঐকান্তিক ও নিরলস প্রচেষ্টায় সোদপুর দেশবন্ধু বিদ্যাপীঠের সেমিনার হলে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বনামধন্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডাঃ প্রকাশ মল্লিক। তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এক অন্য মাত্রা দেয়। তিনি তাঁর বক্তব্যে বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিতে বায়োকেমিক হেলথ প্র্যাকটিশনাররা কীভাবে কাজ করে চলেছেন এবং বিশেষ করে করোনা মহামারীর কঠিন সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা কীভাবে সমাজের সেবা করেছেন, তা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পরে উপস্থিত প্রত্যেক চিকিৎসকের হাতে তিনি মেমেন্টো ও মানপত্র তুলে দেন, যা সকলের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ অর্ণব সাহা, ডাঃ রিসা, ডাঃ অর্ণব দত্ত, ডাঃ আলিয়া আহমেদ, ডাঃ খুশবু আহমেদ, ডাঃ আশিস রায়, ডাঃ মনোজ কুমার মিত্র, ডাঃ দিলীপ দাস, ডাঃ কিংশুক গোস্বামী সহ জেলার বহু বিশিষ্ট চিকিৎসক।
আলোচনা সভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন চিকিৎসকরা। মঞ্চে ইনফার্টিলিটি এবং মেল ইনফার্টিলিটিতে স্পার্ম কাউন্ট কমে যাওয়ার কারণ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন ডাঃ ইমতিয়াজ হোসেন। রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস নিয়ে কোন ক্ষেত্রে কী মেডিসিন প্রয়োগ করতে হবে, তা বিশদে ব্যাখ্যা করেন ডাঃ মনোজ কুমার মিত্র। এছাড়াও মেডিসিনের কেমিক্যাল কম্পোজিশন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এদিনের সভায় অন্যতম আলোচক ডাঃ ইয়াসমিন এলার্জি রাইনাইটিস, শরীরে ফরেন বডি প্রবেশ করলে জ্বালা-যন্ত্রণা হলে কোন মেডিসিনে তা বের করা যায় এবং হার্ট ডিজিজের ফার্স্ট স্টেজে কোন মেডিসিন কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। নিজের লেখা মেডিসিনের বই নিয়েও তিনি বক্তব্য রাখেন। পাশাপাশি পালসাটিলা, বেলেডোনা ও থুজা মেডিসিনের উপর স্বরচিত কবিতা পাঠ করে তিনি উপস্থিত সকলের প্রশংসা অর্জন করেন।অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে সকলকে মুগ্ধ করেন ডাঃ সুপ্রিয়া রায় চৌধুরী। শেষ পর্বে চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ডাঃ শান্তনু মাইতি এবং ডাঃ রফিক সাহেবকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
গুণীজন ও চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে সোদপুরের এই সম্মেলন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।