হলদিয়ার শ্রমিকদের সমস্যার সমাধান চাই

হলদিয়ার বিভিন্ন কারখানায় সম্প্রতি আমাদের বিধায়ক মহাশয় Pradip Bijali সৌজন্য সাক্ষাৎ, মতবিনিময় এবং পুষ্পস্তবক বিনিময়ের জন্য কয়েকটি কারখানা পরিদর্শন করেছেন। সৌজন্য সাক্ষাৎ অবশ্যই গণতান্ত্রিক সম্পর্কের একটি অংশ। কিন্তু নির্বাচনের প্রায় পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—হলদিয়ার শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের সমস্যাগুলি নিয়ে কবে সরাসরি আলোচনা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে?

শ্রমিক ও শ্রমিক পরিবারের বহু মানুষ অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আপনাকে ভোট দিয়েছিলেন। তাঁদের প্রত্যাশা ছিল—শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, বেতন কাঠামো এবং অন্যান্য ন্যায্য সমস্যাগুলির দিকে আপনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে নজর দেবেন।

হলদিয়ার প্রায় প্রতিটি শিল্পাঞ্চলেই শ্রমিকদের কোনো না কোনো সমস্যা রয়েছে। কোথাও বেতন কাঠামো অত্যন্ত দুর্বল, কোথাও চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, কোথাও কাজের পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ, আবার কোথাও শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছনোর সুযোগ সীমিত।

অনেক শ্রমিকের অভিযোগ, বর্তমান বেতন দিয়ে একটি সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, বহু কারখানায় শ্রমিক সংগঠন বা ইউনিয়নের কার্যকর উপস্থিতি না থাকায় শ্রমিকরা নিজেদের সমস্যাগুলি সংগঠিতভাবে তুলে ধরতেও পারছেন না। কোথাও কোথাও চাকরির ভয়ের কারণে শ্রমিকরা মুখ খুলতে পারছেন না—এমন অভিযোগও রয়েছে।

এর পাশাপাশি, আমাদের বক্তব্য হলো—বিগত ১৫ বছর ধরে হলদিয়ার বিভিন্ন কারখানায় যে সমস্যাগুলি জমে জমে আজ জীর্ণ ও জটিল অবস্থায় পৌঁছেছে, সেই সমস্যাগুলির সমাধানের জন্যও এখন দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের এই সমস্যাগুলি একদিনে তৈরি হয়নি, তাই সেগুলি সমাধানের জন্যও ধারাবাহিক উদ্যোগ দরকার।

নতুন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার কাছে তাই আমাদের প্রত্যাশা আরও বেশি।

কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় যেমন হচ্ছে, তেমনই শ্রমিকদের সঙ্গেও সরাসরি মতবিনিময়ের ব্যবস্থা করুন। শ্রমিকদের কাছে গিয়ে তাঁদের কথা শুনুন। তাঁদের সমস্যাগুলি লিখিতভাবে সংগ্রহ করুন এবং প্রয়োজন হলে কারখানা কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও প্রশাসনকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করুন।

কারণ একটি কথা মনে রাখা দরকার—

এই কারখানাগুলির ম্যানেজমেন্টের অনেকেই হলদিয়ার মানুষ নন, কিন্তু এই শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার হলদিয়ারই মানুষ। তাঁদের জীবন-জীবিকা এই শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

শ্রমিকদের ভোটে আপনি বিপুল জনসমর্থন পেয়েছেন। সেই শ্রমিকদের আজ যদি মনে হয় তাঁদের সমস্যাগুলি শোনা হচ্ছে না, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে।

আমাদের মতো শ্রমিকরা আজ কোথায় যাবে?
ন্যায্য দাবি জানাতে গেলে যদি ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, তাহলে শ্রমিকরা তাঁদের সমস্যার কথা বলবেন কার কাছে?

আজ বহু শ্রমিকের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি। সংসারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য—সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করে একজন শ্রমিক তাঁর পরিবারকে চালিয়ে যাচ্ছেন।

তাই বিধায়ক মহাশয়ের কাছে আমাদের বিনীত কিন্তু দৃঢ় আবেদন—

হলদিয়ার শ্রমিকদের কাছে আসুন। তাঁদের কথা শুনুন। বিগত দিনের জমে থাকা সমস্যাগুলি চিহ্নিত করুন এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিন।

শুধু কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় নয়—
এবার শ্রমিকদের সঙ্গেও মতবিনিময় হোক।

শ্রমিকের সমস্যা মানে শুধু একজন শ্রমিকের সমস্যা নয়—তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি পরিবার, একটি সংসার এবং একটি ভবিষ্যৎ।

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমরা কার কাছে যাব?
আমাদের কথা কে শুনবে?

এই প্রশ্নগুলির উত্তর আমরা আমাদের জনপ্রতিনিধির কাছ থেকেই প্রত্যাশা করি।

হলদিয়ার শ্রমিক বাঁচলে হলদিয়ার শিল্প বাঁচবে।
শ্রমিকের পরিবার বাঁচলে হলদিয়ার অর্থনীতি বাঁচবে।

তাই আর দেরি নয়—
শ্রমিকদের সমস্যার দ্রুত সমাধানে কা
#বিশ্বনাথ_দাস
#সুতাহাটা
#PurbaMedinipur