মন্ত্রীর আশ্বাসে সচল হাওড়া-কলকাতা রুটের বন্ধ ফেরি পরিষেবা

বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ

বকেয়া বেতন এবং পূজোর বোনাস না পাওয়ার অভিযোগ তুলে হুগলি নদী জলপথ সমবায় সমিতি লিমিটেড এর কর্মীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ফেরি সার্ভিস বন্ধ করে দেয়। পূজোর মুখে এমন ঘটনায় সমস্যায় পড়েন হাওড়া ও কলকাতায় যাতায়াতকারী যাত্রীরা। ১৪ অক্টোবর বুধবার চতুর্থীর দুপুরের ঘটনা।
এরপর ১৫ই অক্টোবর বৃহস্পতিবার পঞ্চমীর দিন সকালে প্রশাসন এবং রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা উত্তর হাওড়ার বিধায়ক উমেশ রাই তাঁর হাওড়ার অফিসে হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি লিমিটেডের আন্দোলনকারী কর্মীদের সাথে আলোচনায় বসেন। আন্দোলনকারীদের সমস্ত কথা শুনে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলেন এবং কর্মীদের বকেয়া বেতন ও দাবিদাওয়া মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলে কর্মীরা তাদের কর্ম বিরতি তুলে নেন। মন্ত্রীর আশ্বাসের পরই পঞ্চমীর দুপুর থেকে হাওড়া ও কলকাতায় বন্ধ থাকা ১৪টি ঘাটেই ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়।
ফলে পূজোয় ঠাকুর দেখতে বের হওয়া মানুষ এবং নিত্যযাত্রীদের বড়সড় ভোগান্তির হাত থেকে রেহাই মিলেছে। ফেরিঘাটের কর্মীদের কথায়, "মন্ত্রী উমেশ রাই তাঁদের দাবি দাওয়ার কথা শুনে পাওনা টাকা দিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি পূজোর সময় ফেরি পরিষেবা চালু রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। এরপরই তাঁরা কর্ম বিরতি তুলে ফেরি পরিষেবা চালু করেছেন।" প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুর দুটো নাগাদ হাওড়া স্টেশন লাগোয়া ফেরিঘাটে হুগলি নদী জলপথ পরিবহন সমবায় সমিতি লিমিটেড এর কর্মীরা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভে সামিল হয়। ফলে হাওড়া থেকে আহিরীটোলা, শোভাবাজার, বাগবাজার, আর্মেনিয়ান ঘাট, বাবুঘাট, প্রিন্সেপ ঘাট, চাঁদপাল, নুরপুর, বাউরিয়া, গাদিয়াড়া, গোলাবাড়ি, নাজিরগঞ্জ সহ মোট ১৪ টি রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। তাঁদের অভিযোগ, ওই সংস্থায় প্রায় ২৫০ জন কর্মচারী কাজ করেন। মাত্র ৬ টাকা ভাড়ায় রোজ ৪০ হাজার মানুষ ফেরি সার্ভিসে যাতায়াত করেন। পূজোর সময় আরও বেশি। দুই মাস যাবত তাঁরা বেতন পান না। এমনকি পূজোর বোনাসও নয়। ফলে তাঁরা চরম আর্থিক কষ্টের মুখে পড়েছেন। পূজোয় পরিবার পরিজন বাচ্চাদের জন্য নতুন জামাকাপড়ও কিনতে পাড়েনি। তাঁরা এও বলেন, পূজোর সময় সমিতির ১৪ টি ফেরিঘাটে টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয় লক্ষ লক্ষ টাকা। সেই টাকা থেকে অনায়াসে তাঁদের বকেয়া টাকা মিটিয়ে দিতে পারত কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তা করেনি। এরই প্রতিবাদে তাঁরা ফেরি পরিষেবা বন্ধ রেখে বিক্ষোভে সামিল হন।