ক্যাব চালক হত্যাকান্ডে রহস্য
বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ
২৪ ঘন্টার মধ্যে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অর্থাৎ পৃথক দুই এলাকা থেকে উদ্ধার হয় দুটি মৃতদেহ। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে। দেহ দুটি ময়নাতদন্তের পর হত্যাকান্ড বলে জানতে পারে পুলিশ। ঘটে যাওয়া ওই জোড়া হত্যাকান্ডে ঘণীভূত হয় রহস্য। কলকাতার এন্টালি ও হুগলি জেলার ডানকুনি এলাকায় সংঘটিত ওই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের তদন্তে নেমে ৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ৬ তারিখ সোমবার রাতে ডানকুনি থানার দিল্লি রোড হাইওয়ের পাশে ভাদুয়া এলাকায় পা বাঁধা মৃতদেহ উদ্ধারের তদন্তে নেমে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইলের সূত্র ধরে প্রথমেই তিনজনের হদিস পায়। গাড়ি ছিনতাই এর উদ্দেশ্যেই ওই জোড়া হত্যাকান্ড বলে জানতে পেরে তিনজনকে গ্রেফতার করে ডানকুনি থানার পুলিশ। ধৃতদের জেরা করতেই রোমহর্ষক তথ্য সামনে আসে পুলিশের। পুলিশ জানায়, ধৃতরা উত্তর শহরতলিতে 'লুটেরা গ্যাং' চালায়। তাঁরা মূলত রাতের অন্ধকারে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের নির্জন এলাকায় চালকদের হত্যা করার পর তাঁদের মোবাইল, গহনা, অর্থ লুট করে নিয়ে দেহ রাস্তায় ফেলে কলকাতায় গাড়ি নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে পালাত। ধৃতদের মধ্যে একজন পূর্বে গাড়ি চালকের কাজ করত বলে জানা গিয়েছে। ওই রাতে ধৃতরা প্রথমে যাত্রী সেজে অ্যাপ ক্যাব ভাড়া করে। এরপর রামজি কুইরি নামে বিরাটির ওই ক্যাব চালকের কাছ থেকে মোবাইল, সোনার গয়না ও টাকা লুট করার চেষ্টা চালাতে গিয়ে বাঁধাপ্রাপ্ত হতেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে চালকের পা বেঁধে ফেলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মৃতদেহটি দিল্লি রোড হাইওয়ের পাশে ফেলে দিয়ে গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয়। ধৃতরা হাইজ্যাক করা গাড়িটি বিক্রি করার উদ্দেশ্যে বেনিয়াপুকুরে নিয়ে যায়। কিন্তু গাড়ির বৈধ নথিপত্র না থাকায় কেউ তা কিনতে রাজি হয়নি। এদিকে গাড়িটির তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় ক্যাবটিকে তাঁরা ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। মৃত কুইরির গাড়িটি মল্লিকবাজারের কাছ থেকে উদ্ধার করেছে বলে জানায় পুলিশ। কুইরিকে হত্যার ঠিক পরের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার মাঝ রাতে এন্টালির ডিসি দে রোডে ঠিক একই পদ্ধতিতে অন্য এক ক্যাব চালক ভগবান প্রসাদ গুপ্তাকে হত্যা করে তাঁর গাড়িটিও হাইজ্যাকের চেষ্টা করে ধৃতরা। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম মহঃ আরিয়ান মোল্লা, মহঃ মনিরুল গাজী ও শেখ শাহদাত। ধৃতদের মধ্যে একজন উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম ও বাকি দুজন সোদপুরের বাসিন্দা। মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে ধৃতরা বিরাটি ও মধ্যমগ্রামের ক্যাব চালকদেরই টার্গেট করত। ইতিমধ্যেই ডানকুনিতে ক্যাব চালক খুনের কিনারা করতে চন্দননগর পুলিশ ধৃতদের পাঁচ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয়। জেরার মুখেই দ্বিতীয় খুনের কথা স্বীকার করে আততায়ীরা জানায়, এন্টালিতেও তাঁরা একই পদ্ধতিতে অন্য ক্যাব চালক গুপ্তাকে হত্যা করেছে। কিন্তু ওই মৃতদেহটি রাস্তায় ফেলে পালানোর সুযোগ না পেয়ে গাড়িতে রেখেই পালিয়েছিল তাঁরা। চন্দননগর কমিশনারেট এর পক্ষ থেকে বিষয়টি কলকাতা পুলিশকে জানানো হয়েছে। আদালত মারফত ডানকুনি থানা ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে সংঘটিত গাড়ি হাইজ্যাক চক্রের নেপথ্যে আর কেউ কোনওভাবে জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে ধৃতদের দফায় দফায় জেরা করছে। পরবর্তীতে এন্টালি থানাও তাঁদের হেফাজতে নেবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
২৪ ঘন্টার মধ্যে দুই ক্যাব চালক হত্যাকান্ডে স্বভাবতই পরিবহন ও ক্যাব চালকদের সুরক্ষা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

মন্তব্য 0