*সমাজসেবার আড়ালে সাইবার প্রতারণা, অনাথ আশ্রম চালানো অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার কাটোয়ায়*

এস রোজলিন:কলকাতা: অনাথ আশ্রম চালান, পরিচয় অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষকের। আর সেই সমাজসেবার মুখোশের আড়ালেই চলত কোটি কোটি টাকার সাইবার প্রতারণা। দেশজুড়ে ১৯৫টি আর্থিক প্রতারণার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কাটোয়া থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করল এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম অমল কুমার ঘোষ। বাড়ি পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরের ডাকবাংলো রোডে। কেতুগ্রামের সোনানন্দী এলাকায় একটি অনাথ আশ্রম চালাতেন তিনি। একসময় কেতুগ্রামের ছোটপুরুল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, চার বছর আগে অবসর নিয়েছেন।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কাটোয়া থানার সাইবার বিভাগে কয়েকটি আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়ে। স্বল্প সময়ে মোটা টাকা লাভের টোপ, চাকরির প্রতিশ্রুতি এবং ডিজিটাল অ্যারেস্টের ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ দেখে, প্রতারণার টাকা জমা পড়েছে অমল কুমার ঘোষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।এরপরই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। পুলিশের দাবি, শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, দেশের প্রায় ২০টি রাজ্যে সাইবার প্রতারণার মামলায় তাঁর অ্যাকাউন্টে লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। অন্ধ্রপ্রদেশ, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, কেরালা, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু, বিহার, পুদুচেরি, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, অসম, গুজরাট, উত্তরাখণ্ড, তেলেঙ্গানা, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর সহ একাধিক রাজ্যের মামলায় তাঁর যোগ মিলেছে। এখনও পর্যন্ত মোট ১৯৫টি মামলায় তাঁর অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।
এই চক্রে কাটোয়ার চরপাতাইহাট এলাকার বাসিন্দা দীপঙ্কর মণ্ডল নামে আরও এক ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। দুজনের বিরুদ্ধেই বুধবার স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে পুলিশ। বুধবার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় অমল কুমার ঘোষকে। বৃহস্পতিবার তাঁকে কাটোয়া আদালতে তোলা হলে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশের অনুমান, ধৃতের অ্যাকাউন্টটি প্রতারক চক্র 'মিউল অ্যাকাউন্ট' হিসেবে ব্যবহার করত, যা সাধারণত সাইবার জালিয়াতির টাকা লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা হয়। এই চক্রে আর কারা জড়িত, তা জানতে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। যদিও ধৃতের দাবি, তিনি নির্দোষ। তাঁর বক্তব্য, ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আশ্রমের কাজে ব্যবহার হত এবং একাধিক ব্যক্তি অ্যাকাউন্ট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে কেউ এই জালিয়াতি করে থাকতে পারে।