নিজের বাড়ি বিক্রি করে জওয়ানদের জন্য ১০ লাখ টাকা, ৮৬ বছরের করিবাসাম্মার গল্প মন ছুঁয়ে যাবে

বয়স ৮৬ বছর। জীবনের এই পর্যায়ে এসে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকার জন্য সঞ্চয় করাটাই হয়তো স্বাভাবিক। কিন্তু কর্ণাটকের দাভানাগেরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা করিবাসাম্মা বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথ।

দেশের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করা জওয়ানদের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা তাঁর মনে ছিল দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে। বহু বছর পর সেই ইচ্ছাকেই বাস্তবে রূপ দেন তিনি।

জওয়ান ও তাঁদের পরিবারের সহায়তার জন্য ১০ লাখ টাকা দান করার সিদ্ধান্ত নেন করিবাসাম্মা। সেই অর্থ সংগ্রহ করতে নিজের বাড়ি বিক্রি করেন তিনি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে পেনশন থেকে সঞ্চয় করা অর্থও এই উদ্যোগে যুক্ত করেন।

পরে পুরো ১০ লাখ টাকা ‘ভারত কে বীর’ (Bharat Ke Veer) তহবিলে দান করেন এই প্রবীণ শিক্ষিকা।

শারীরিক নানা সমস্যার মধ্যেও দেশের জওয়ানদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা কমেনি। তাঁর কাছে দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করা মানুষদের পাশে দাঁড়ানো ছিল বহুদিনের এক আন্তরিক ইচ্ছা।

করিবাসাম্মার বিশ্বাস, দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক জওয়ান পরিবার ও প্রিয়জনদের থেকে দূরে থাকেন। তাই তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু করতে পারাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

তাঁর এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় দিক হয়তো টাকার অঙ্ক নয়, বরং সেই অর্থ জোগাড়ের পেছনে থাকা মানসিকতা। নিজের বাড়ি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ এবং দীর্ঘদিনের সঞ্চয় অন্যদের কল্যাণে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সত্যিই বিরল এক দৃষ্টান্ত।

৮৬ বছরের করিবাসাম্মার গল্প তাই শুধু ১০ লাখ টাকা দানের গল্প নয়। এটি প্রায় পাঁচ দশক ধরে বয়ে চলা একটি ইচ্ছা, দেশের প্রতি শ্রদ্ধা এবং নিজের সামর্থ্য দিয়ে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর এক মানবিক গল্প।

জীবনে আমাদের সামর্থ্য সবার এক নয়। কিন্তু সেই সামর্থ্যের মধ্য থেকে অন্যের জন্য কিছু করার ইচ্ছাটাই কখনও কখনও মানুষকে আলাদা করে তোলে।

তথ্যসূত্র:
The Times of India
Bharat Ke Veer
Karnataka-সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন