মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের দিন শেষ না আবার তিনি ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন সেটা কে জানে ভগবান না অন্য কেউ জানা নেই ঠিক আমার এই গভীর রাতে লিখতে বসে। অগ্নিকন্যার ইমেজ কী আবার ফিরে পাবেন তিনি কে জানে। এই সব বাধা কাটিয়ে তিনি আবার যে জেগে উঠবেন সেটা বোঝা যাবে আর কিছুদিন পরেই হয়তো লোকসভা ভোটের আগেই। একে একে তাঁর সাধের তৃণমূলের মা মাটি আর মানুষের সংসারে আজ আগুন লেগেছে বেশ কিছুদিন আগেই। বানরের লেজে আগুন লেগে যেমন সেই বীর রাবণ এর লংকাপুরী ছারখার হলো। ঠিক তেমনি ভাবেই তৃণমূলের ঘর ভাঙলো অনেকদিন আগেই রাজ্যে ২০২৬ এর বিধানসভা ভোটের ভরাডুবির পরেই।
এই ভগ্ন হৃদয়ে আর ভগ্ন তৃণমূলের সেই ভাঙা পায়ের সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার হুমকি শুনেই তাঁর দিন কাটে এখন কালীঘাট এর বাড়ীতে বসেই। রাস্তায় বের হলেই যে একদা একসাথেই তাঁর সাথে দল করা মূখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নানা কটুক্তি শুনতে হয় তাঁকে। সত্যিই কী যে দিন পড়লো কে জানে এমন অবশ্য লাল পার্টির আমলে হয়নি আগে তাঁর কোনোও সময়। এই জ্ঞানেস কুমারের ইস্যুতে দিল্লীর রাজপথে নামবে সবাই যে সেখানেই মমতার এক জোট হয়ে যাওয়া। দিল্লীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনে নামা। কারণ দেশ জুড়ে জেন জিদের যে আন্দোলন শুরু হয়েছে সেখানে সব রাজনৈতিক দল নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এই যে বিরাট আন্দোলন গড়ে উঠেছে সেখানে উপস্থিত হচ্ছে সবাই একে একেই কিছুটা নিজেদের স্বার্থে তো বটেই। বিজেপির বিরুদ্ধে কী আর লড়া যায় ইডি সিবিআই আছে না।
কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী আর প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাশে দাঁড়াচ্ছে অনেকেই। কারণ ইস্যু তো এখন একটাই জ্ঞানেস কুমার এর ইস্তফা দাবি করেছেন সবাই। সেই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে দিল্লীর রাস্তায় নেমে পড়তে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের আবার। কারণ রাজ্যে এখন তাঁর আর আগের মত অগ্নিকন্যার ইমেজ নেই। সেই আগুনে ইমেজ এর উত্তাপে জ্বলে পুড়ে খাক হয়না কেউ আর না শাসক আর না পুলিশ। শাসক এর বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেও তাঁর সব কাছের লোকজন আজ একদম তাঁকে ছেড়ে অন্য শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে নিজেরা বাঁচতে। আর বাংলার রাস্তায় বের হলেই যে কত কিছুই ঘটে যায় কে জানে তাই এখন দিল্লী যাওয়া তাঁর আন্দোলনে নামতে।
সেই সময় এই দিল্লী যাওয়া মমতার। যে মমতার একা চলার অভ্যাস বেশী। যে মমতার আন্দোলন গড়ে উঠলে তিনি একাই ক্রেডিট নিতে অভ্যস্ত হয়ে যান অতীত দিন সেটাই বলে জানান দিয়ে যায় বারবার ইতিহাস তো সেই কথাই বলে সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম তো সেই সব এর সাক্ষী আছে। সহযোগী আর তাঁর পাশে থাকা দলদের কী একটু দেখবেন তিনি কে জানে। এই বিপদে পড়ে কিছুটা হলেও সিপিএম ও কংগ্রেসের নেতাদের কাছে গিয়ে কি একটু হলেও তিনি নিজের মতো করে ভেসে থাকতে চাইছেন শাসক পক্ষ অবশ্য এমনটাই মনে করেন যে। কিন্তু তাতে কী মমতাকে আটকাতে শাসক কে কত যে প্ল্যান তৈরি করতে হয় কে জানে এই অন্ধকার রাতেও। তাঁরা জানে এই শূন্য মমতা সিপিএমের থেকেও যে অনেক বেশী ভয়ংকর। দীপ্সিতা তো তাঁকে বলেছেন রাস্তায় নামতে। আর এটাই যে তাঁকে কিছুটা হলেও অ্যাডভান্টেজ করে রেখে দিয়েছে।
কারণ তিনি মানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলন এর মাটি বোঝেন। আন্দোলন এর আসল এপি সেন্টার কোথায় সেটা বোঝেন। শাসকের সাথে সংঘাতে লিপ্ত হয়ে কী ভাবে নাস্তানাবুদ করতে হয় সেটা বোঝেন। ভোট চুরি নিয়ে দেশ জুড়ে যে জেন জি দের প্রতিবাদ মিছিল হচ্ছে সেটাতে যোগ দিলে কিছুটা হলেও যে রাজনৈতিক জমি পাওয়া যাবে সেটা বোঝেন। তিনিই তো বোঝেন যে সিঙ্গুরের সেই তিন ফসলি জমি তাঁকে আন্দোলন এর ডিভিডেন্ড দেবেই। তিনি বোঝেন যে নন্দীগ্রাম এর মাটিতে সোনার ফসল ফলবেই। এখন না হয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পাঠ্য বই থেকে এইসবকে বাদ দিতে চাইছেন। তাতে কী আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতিক জীবনের ইতিহাসকে মুছে ফেলতে পারবেন না মনে হয়। তাই মমতার দিল্লী যাত্রা কিন্তু আবার অগ্নিকন্যার সেই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর আর রূপ দেখা যাবে। একটু হলেও কিন্তু মোদী আর অমিত শাহের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে।
দিল্লী যাচ্ছেন মমতা - অভিজিৎ বসু।
আট অক্টোবর, দু হাজার ছাব্বিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।

মন্তব্য 0