স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভুয়ো চিকিৎসক থাকার অভিযোগে স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে চিঠি

বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ

পূর্বতন সরকারের আমল থেকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলির বেহাল অবস্থা। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এমনকি চিকিৎসা পরিষেবাও সঠিক পদ্ধতিতে হচ্ছে না বলে বিপুল অভিযোগ উঠে আসে প্রায়শই। রাজনৈতিক পালাবদল হতেই পরিস্থিতি ঠিক করার জন্য কড়া অবস্থান নিয়েছে বর্তমান সরকার। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সারপ্রাইজ ভিজিট করে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন বর্তমান স্বাস্থ্য মন্ত্রী। এরই মধ্যে আচমকাই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভুয়ো চিকিৎসক থাকার অভিযোগে সরব হয় 'অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোম' সংগঠন। ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়-কে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। যার মাধ্যমে রাজ্যে একটি বড়সড় ভুয়ো চিকিৎসক চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ তুলে তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল এন্ড নার্সিংহোম এর সম্পাদক ডা. রাজীব পাণ্ডের কথায়, রাজ্যজুড়ে প্রায় শতাধিক চিকিৎসক চিকিৎসা পরিষেবার নামে ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যাঁদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর আছে। নামের পাশে লেখা আছে এমবিবিএস, এমডি। কিন্তু তাঁরা কখনও ডাক্তারি পরীক্ষাতেই বসেননি। এমবিবিএস পাশ করা তো দূরের কথা, জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষাতেই বসেনি তাঁরা। ভিন রাজ্যে ডাক্তারি পাশের ভুয়ো ডিগ্রি জোগাড় করে আনে। এরপর মাথা পিছু প্রায় ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ওই রেজিস্ট্রেশন নম্বর সংগ্রহ করেছে। ওই ঘটনার নেপথ্যে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের একটি চক্র এমনকি বেশ কিছু মাথারা জড়িত আছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। সংগঠনের চিঠিতে মূলত ডাঃ জুলফিকার মণ্ডল ও ডাঃ শেখ সাইদুর হক নামের দুই ভুয়ো চিকিৎসকের নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। ডাঃ জুলফিকার মন্ডল, যাঁর মেডিক্যাল কাউন্সিল রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮৯০২১। জানা গেছে, ডাঃ জুলফিকার মন্ডল এর দুটি নার্সিংহোম রয়েছে। একটি নিউটাউনের ডিডি ব্লকে অবস্থিত জেএম অ্যাস্থেটিক। অন্যটি বারাসাত বামুনপাড়ায় অবস্থিত সম্রাজ্ঞি নার্সিংহোম। সেখানে জুলফিকার মন্ডল এর নামের পাশে লেখা এমবিবিএস, ডিজিও, এমডি। জুলফিকারের দাবি, তিনি বিহারের শ্রীকৃষ্ণ মেডিক্যাল কলেজে থেকে এমবিবিএস পাস করেছেন। কিন্তু তথ্যটি সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা বলে জানিয়েছে বিহারের মেডিক্যাল বোর্ড। এদিকে ডাঃ শেখ সাইদুর হক, যাঁর ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিল রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮০১৯৮। সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমানে সামান্য ফাইমোসিস অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে মারা যায় একটি ছোট্ট শিশু। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে সামনে আসে ডাঃ শেখ সাইদুর হকের নাম। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, তাঁরও সমগ্র ডিগ্রি ভুয়ো। শেখ সাইদুর পূর্ব বর্ধমানের একাধিক বেসরকারি নার্সিংহোমে সার্জেন হিসেবে কর্মরত। যিনি আদৌ এমবিবিএস পাশ করেননি। ডাঃ পান্ডে জানান, বিগত সরকারের আমলে এঁরা স্বাস্থ্য সাথী থেকে অসৎ উপায়ে উপার্জন করেছেন। এখন আয়ুষ্মান ভারত থেকেও টাকা আত্মসাৎ এর ফন্দি এঁটেছেন। ডাঃ পান্ডে এও জানান, নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হলে অবিলম্বে মেডিক্যাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডাঃ সুদীপ্ত রায় এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ডাঃ সুশান্ত রায়কে তাঁদের পদ থেকে সরাতে হবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত ডাক্তারদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল, অপরাধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাজ্যজুড়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করার দাবি তোলা হয়েছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এখন দেখার বিষয়, চিকিৎসা পরিষেবায় স্বচ্ছতা আনতে ভুয়ো চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ঠিক কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় সরকারের তরফে।