বিকাশ পাল,বেলপাহাড়ী: ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ঘাগরা জলপ্রপাতে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। অসাবধানতাবশত খরস্রোতা জলে পড়ে যায় ১১ বছরের এক বালক। চোখের সামনে সন্তানকে ভেসে যেতে দেখে তাকে বাঁচাতে মুহূর্তে জলে ঝাঁপ দেন মা। তবে চোখের পলকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছেলেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন বাবা। কিন্তু প্রবল স্রোতের ঘূর্ণিতে পড়ে গভীর জলে তলিয়ে যান মা। রাত ১০টা পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজ মহিলার কোনও সন্ধান মেলেনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার বারুইপুর থেকে আত্মীয়-পরিজন ও পরিচিত মিলিয়ে মোট ৩৮ জনের একটি দল ঝাড়গ্রামে বেড়াতে এসেছিল। শনিবার দুপুর নাগাদ দলটি বেলপাহাড়ির ঘাগরা জলপ্রপাত চত্বরে পৌঁছয়। জলপ্রপাতের কাছে ঘোরাঘুরির সময় আচমকাই অসাবধানতাবশত পা পিছলে গভীর ও খরস্রোতা জলে পড়ে যায় ওই দম্পতির ১১ বছরের শিশুপুত্র।ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী দেবাশিস রায় বলেন, "বাচ্চাটা হয়তো পা পিছলে পড়ে যায়। পড়ে যেতেই জলের প্রবল স্রোত ওকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। তখনই ওর মা ওকে বাঁচাতে সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপ দেন। দূর থেকে তা দেখতে পেয়ে শিশুর বাবাও দৌড়ে এসে জলে ঝাঁপ মারেন। এর পর বাবা ও ছেলে ভেসে ওঠার চেষ্টা করছিল। আমি নিজে দ্রুত নেমে বাবার সঙ্গে হাত লাগিয়ে ছেলেটিকে জল থেকে টেনে তুলি। কিন্তু মা যেখানে পড়েছিলেন, সেখানটা একটা গর্তের মতো এবং জলের তীব্র ঘূর্ণি ছিল। উনি তলিয়ে যাওয়ার পর আর ভেসে ওঠেননি। পরে খোঁজাখুঁজির সময় ওঁর ওড়না বা সালোয়ারের একটি ছেঁড়া অংশ উদ্ধার হয়েছে।"খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। তবে পাথুরে খাঁদ এবং জলের তীব্র স্রোত থাকার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। রাত ১০টা বেজে গেলেও নিখোঁজ মহিলার হদিশ মেলেনি। অন্ধকারের মধ্যেই জোরকদমে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। ছুটির দিনে আনন্দভ্রমণে এসে চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এমন ঘটনায় বাকরুদ্ধ গোটা পরিবার। জলপ্রপাত চত্বরে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।