*মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন,ভূতনিতে জল কমলেও ত্রাণের হাহাকার, বন্যার্তদের পাশে ‘মানবতা’*

*বাইজিদ মণ্ডল:-* গঙ্গা ও ফুলহর নদীর প্লাবনে মালদার মানিকচক ব্লকের ভূতনী এলাকায় বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখনও বন্যার ক্ষতচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছে। জল কিছুটা কমলেও বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। বহু পরিবার এখনও খাদ্য, পানীয় জল, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। এর পাশাপাশি নদীভাঙনে বহু মানুষের জীবন ও জীবিকাও বিপর্যস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভূতনী এলাকার উত্তর চণ্ডীপুর, দক্ষিণ চণ্ডীপুর ও হিরানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। পাশাপাশি গোপালপুর, মানিকচক ও ধরমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশ কিছু এলাকাও বন্যার কবলে পড়ে। সব মিলিয়ে সহস্রাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যায়।
এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সমাজকল্যাণমূলক সংস্থা ‘মানবতা’ বন্যাবিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে মালদার ভূতনী এলাকায় পৌঁছয়। সংস্থার পক্ষ থেকে দক্ষিণ চণ্ডীপুরের কাঁটা বাঁধ এলাকায় ১২৩টি পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রীসহ ত্রাণ তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বন্যাকবলিত শতাধিক শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন পোশাক।
ত্রাণের প্যাকেটে ছিল দুধ, মুড়ি, চিড়ে, চিনি, বিস্কুট-সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী। ত্রাণসামগ্রী প্যাকিং, প্রস্তুতি ও বিতরণের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মানবতার সদস্য ও শিক্ষক টিপু সুলতান। এছাড়া ত্রাণ কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন এলাকার ভেটেরিনারি অফিসার ডা. মোশারফ হোসেন।
ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মানবতার প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী পিয়াদা, ভেটেরিনারি অফিসার ডা. মোশারফ হোসেন, মানবতার সদস্য শিক্ষক টিপু সুলতান, গ্রামীণ চিকিৎসক আশরাফুল হোসেন, মালদা মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র আব্দুস সাত্তার, আসিব আক্তার, মোবারাক হোসেন বুবাই-সহ অন্যান্যরা।
ত্রাণ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য সংস্থার পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
মানবতার সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী পিয়াদা বলেন, “ক্ষুদ্র সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের চাহিদার তুলনায় এই অল্প ত্রাণসামগ্রী খুবই সামান্য। তবুও আন্তরিকভাবে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এই এলাকার মানুষের কষ্ট চোখে দেখার মতো নয়। শত শত মানুষ এখনও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “এই কঠিন সময়ে সারা বাংলার মানবদরদি মানুষ ও সমাজকল্যাণমূলক সংস্থাগুলিকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।”
ত্রাণ কার্যক্রমে আর্থিক, খাদ্যসামগ্রী বা অন্য কোনওভাবে সহযোগিতা করা সকলের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
এদিকে, ‘মানবতা’র পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বন্যাকবলিত পরিবারগুলি। নতুন পোশাক পেয়ে শিশুদের মুখেও ফুটে ওঠে হাসি। তবে জল কমলেও ভূতনীর বহু মানুষের খাদ্য, পানীয় জল, চিকিৎসা এবং জীবন-জীবিকার সংকট এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তাই বন্যার পরবর্তী সময়েও দুর্গত মানুষের পাশে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।