কলকাতার গালিফ স্ট্রীটের গাছের হাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এশিয়ার সর্ববৃহৎ গাছের হাটও বলা হয়।

কিছুদিন আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম এটা হতে পারে। বেআইনি পশু পাখি বিক্রি হচ্ছে এই অছিলায়, মাছ, গাছ, অ্যাকোয়ারিয়াম, টব, সারের দোকান সবই বন্ধ। পশু পাখির অংশটা শুধু বন্ধ হলেও বুঝতাম।

গালিফ স্ট্রীটে হাট বসে। মার্কেট নয়। যে কোনো হাটের মতই সপ্তাহে একদিন, রবিবারে, কিছু ঘন্টার জন্য মানুষজন গাছপালা, টব, ইত্যাদি নিয়ে বসতো। দামও হাটের মতই, যেমন পাটুলি মার্কেটে পাতাপচা সার ১৮০ টাকা কেজি, গালিফ স্ট্রীটে ৬০ টাকা কেজি।

এছাড়াও গাছ মাছের এমন কোনো জিনিস ছিলোনা যা পাওয়া যেত না, যাদের শখ আছে তারা জানেন।
স্থায়ী দোকান নয় যেহেতু তাই তাদের ট্রেড লাইসেন্স না‌ থাকাই স্বাভাবিক। যারা মাঝে মধ্যে যান তারা জানেন ওখানে যেমন বিভিন্ন নার্সারি স্টল দেয়, তেমনই অনেকেই বাড়িতে তৈরি অল্প কিছু গাছ নিয়ে বসেন। বয়স্ক কয়েকজন দাদু ছোটো ছোটো টবে সাকুলেন্ট‌ ক্যাকটাস নিয়ে বসেন।
ওই রাস্তায় জ্যামের কারন দেখানোও বোকামি, হাট বসে রবিবার, এ ছাড়াও প্যারালাল রাস্তা আছে।

দু তিনটে ইউটিউব চ্যানেল আছে যাদের পেট চলতো গালিফ স্ট্রিটের ভিডিও করে। প্রাইস আপডেট, স্টক আপডেট। সেগুলোও আপাতত চুপ।

যাই হোক, যে দেশে কাজিরাঙার মতন জঙ্গলের পর জঙ্গল গায়েব হয়ে যাচ্ছে, সে দেশে গাছ ফাছের শখ করে লাভ নেই।

এমনিও শখ-ফখ হবি-টবি থাকা ভালো জিনিস না। ওসব থাকলে হোয়াটসঅ্যাপে ইতিহাস পড়ার সময় কমে যাবে, তখন ধর্মান্ধ জম্বি তৈরি করা মুস্কিল হয়ে যাবে যে।

গালিফ যতদিন বন্ধ থাকবে ততদিন অন্যান্য মার্কেটে গাছের দাম বেশি থাকবে। যদি কলকাতা থেকে যাওয়া আসায় ঘন্টা দুয়েক খরচ করতে পারেন, তাহলে মুচিসা চলে যেতে পারেন, শ'খানেক নার্সারি আছে ওখানে। মুচিসায় দাম গালিফেরও অর্ধেক, তবে রেয়ার গাছ এক জায়গায় সব পাবেন না। পরপর নার্সারি পাবেন, ঢুকে দেখে নিতে হবে।)

সংগৃহীত সৌজন্যে Rounak Roy