সারা ভারত খেত মজুর ও শ্রমজীবী ইউনিয়নের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির ডাকে আজকে জেলাগুলিতে সদস্য সংগ্রহ অভিযান সংঘটিত হয়। বিশেষ অভিযান হিসেবে আজকের ২৭ শে সেপ্টেম্বর এবং আগামী ৪ঠা অক্টোবর এই দুই দিন চলবে। তবে খেটে খাওয়া ও শ্রমজীবী মানুষের এই সংগঠনের সদস্য হিসেবে তাঁর নিজের নাম লেখানোর জন্য এই কাজ সেপ্টেম্বর অক্টোবর মাস ধরে চলবে।
আজকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ২০টি ব্লকে ১০৫ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩১৫টি গ্রামে একাধিক টিমের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ অভিযান সংঘটিত হয়। ৩৪৯৮২টি সদস্য সংগ্রহের খবর পাওয়া গেছে বলে জেলা সম্পাদক হিমাংশু দাস জানান। জেলা কমিটিও ব্লক, অঞ্চল কমিটির সদস্যগণ এই কর্মসূচিতে যোগ দেন।খেতমজুরের হাতে কাজ নেই এবারের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একটি বড় অংশ চাষের ক্ষতি হয়েছে। সব রকম ফসল ধান ,মাছ, পান, ফুল, সবজি সবই নষ্ট হয়েছে। তাই কাজের দিন হিসেবে সংখ্যা কমে গেছে। এদিকে রেগা প্রকল্প বাতিল করে কেন্দ্রীয় সরকার বি,ভি জি,রাম জি প্রকল্প চালুর নামে প্রহসনে পরিণত হয়েছে। ১২৫ দিনের শ্রম দিবস সর্ব সাকুল্যে ২৩ দিনে এসে পৌঁছেছে। তাও আবার বেশিরভাগ গ্রাম পঞ্চায়েতে চালু হয় নি । তাই গ্রামবাংলায় শ্রমজীবী গরিব মানুষের অবস্থা খুবই খারাপ। এই পরিস্থিতিতে সারা ভারত ক্ষেতমজুর ও গ্রামীণ শ্রমজীবী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট ১৪ দফা দাবির সাথে গ্রামে গঞ্জে কাজ ও মজুরির দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। গ্রামে গ্রামে সদস্য সংগ্রহের মধ্য দিয়ে গ্রামের মানুষকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে এবং দাবি আদায়ের জন্যে সংগঠনের নেতৃত্ব কর্মী সাধারণ সমর্থক সকলেই নেমেছেন।
একে সামনে রেখে আগামী ৬ই অক্টোবর রানী রাসমণি রোডে সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। বড় অংশের মানুষ এই সমাবেশে যোগদান করবেন তার প্রস্তুতি চলছে। এদিকে অস্বাভাবিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, গরিব মানুষের কর্মহীনতা, সরকারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রকল্প গুলি চালু না করা। যা হচ্ছে তাও সকলের জন্য হচ্ছে না। ভোটের আগে দেওয়া কথা সরকার নিজেই রাখছেন না। এস আই আর নিয়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে প্রচন্ড ভীতি সঞ্চার হয়েছে।নাম বাতিলের সাথে সাথে বিচারাধীন ভোটারদের মনে আতঙ্ক রয়েছে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সরকার সহ বিজেপি এস আই আর নিয়ে যে চক্রান্ত করেছে তা মানুষের কাছে ফাঁস হয়ে গেছে। এ নিয়ে সারা দেশ জুড়ে বিদ্রোহ শুরু হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং শাস্তি দিতে হবে। দাবি উঠেছে। এ ক্ষেত্রে বহু মানুষ কে প্রাণ দিতে হয়েছে। বহু মানুষের সর্বস্বান্ত হয়েছেন। মানুষের জীবনের জ্বলন্ত সমস্যাগুলোকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য ধর্মীয় বিভাজনের নামে আতঙ্ক তৈরি করছে মানুষের মধ্যে। ইতিমধ্যে তোলাবাজি লুঠ শুরু হয়ে গেছে। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। দাবি আদায়ের লড়াইয়ে আগামী দিনগুলোতে গ্রামীণ শ্রমজীবী অংশের মানুষকে নিয়ে আন্দোলন সংগঠিত গড়ে তুলতে সংগঠনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।