উপ নির্বাচনের ফল আজই জানা হয়ে গেছে! ৯ই অক্টোবর গণনা কেন্দ্রে যাব না------- ! ভোট শেষ হওয়ার আগেই ঘোষণা হুমায়ুন পুত্রের ! রেজিনগর উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। আগামী ৯ অক্টোবর ইভিএমের ভোটগণনার পর ফল ঘোষণা হবে। কিন্তু সরকারি ভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগেই রেজিনগর উপনির্বাচনের ফল ঘোষণা করে দিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের পুত্র গোলাম নবী আজাদ রবিন।
তিনি জানিয়েছেন, রেজিনগর উপনির্বাচনের ফলাফল আজই জানা হয়ে গিয়েছে। তাই আগামী ৯ তারিখ বহরমপুরে ভোটগণনার দিন গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত থাকবেন না। রবিন বলেন, “আমি এমন কোনও রাজনীতি করতে চাই না যার ফলে আমার সঙ্গে থাকা কোনও মানুষ বা আমার দলের সমর্থকদের ক্ষতি হবে বা তাঁদেরকে পুলিশের হয়রানির মুখে পড়তে হবে বা তাঁদের বাড়ি ভাঙচুর হবে। উপনির্বাচনের প্রচারে যে সমস্ত মানুষ আমার পাশে ছিলেন তাঁদের অনেকেরই বিভিন্ন ধরণের ক্ষতি হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “রেজিনগর উপনির্বাচনে আজ যদি মানুষ নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারতো তাহলে আমি এবং আরও কিছু রাজনৈতিক দল হয়তো আগামী ৯ তারিখ ফলাফল ঘোষণার দিন পর্যন্ত অপেক্ষা এবং উৎকণ্ঠায় থাকতাম। তবে রেজিনগরের মানুষ আজ যা ভোট দেখেছে তাতে আমার সমস্ত উৎকণ্ঠ কেটে গিয়েছে। রেজিনগরের মানুষের মতো আমিও জেনে গিয়েছি এই নির্বাচনের ফলাফল কী হতে চলেছে।”রবিন বলেন, “কৌশলগত কারণেই আমরা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতীকে একাধিক বুথে আমাদের এজেন্টকে বসাইনি। তার পরিবর্তে নির্দল প্রার্থীর হয়ে আমাদের এজেন্টরা বসেছিলেন। তবে রেজিনগরের ৩১৫টি বুথের মধ্যে ২৫০টির বেশি বুথে সকাল ৮টার মধ্যে আমাদের এজেন্টদেরকে হয় বের করে দেওয়া হয়েছে অথবা তাঁদেরকে বসতে দেওয়া হয়নি। ভোট চলাকালীন আমার দলের প্রায় ৩০ জন এজেন্টকে পুলিশ আটক অথবা গ্রেপ্তার করেছে। তাই সকলের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমার দলের হয়ে যারা বুথে বসেছিলেন তাঁদেরকে দুপুর ১টার বহু আগেই আমি প্রত্যাহার করে নিয়েছি। এখন রেজিনগরের কোনও বুথে আমাদের দলের কোনও এজেন্ট নেই। রেজিনগরের মানুষ জেনে গিয়েছেন কোন রাজনৈতিক দল কীভাবে এখানে ভোট করাচ্ছে। আমি
কোনও দলের নাম নিয়ে কারও বিপদ বাড়াতে চাইছি না।”
আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী আরও বলেন, “যদি সাধারণ মানুষকে নিজেদের গণতান্ত্রিক মতামত প্রয়োগ করতে দেওয়ার অধিকার দেওয়া হতো তাহলে আগামী ৯ তারিখ ভোটের ফল প্রকাশের দিন অবশ্যই বহরমপুরে গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতাম। তবে এখনই আমি জানি ভোটের ফলাফল কী হতে চলেছে। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী ৯ তারিখ বহরমপুরে গণনাকেন্দ্রে আর যাব না।” হুমায়ুন-পুত্র স্বীকার করে নেন, “আজ রেজিনগরে যে ভাবে ভোট হয়েছে, তাতে আমার জয়ের কোনও সম্ভাবনাই নেই।”
বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন বলেন, “ভোটপ্রক্রিয়া কীভাবে হচ্ছে তার উত্তর নির্বাচন কমিশন দেবে আমরা দেব না। তবে কেউ যদি গণনাকেন্দ্রে না যেতে চান তাঁকে তো আমরা জোর করে নিয়ে যেতে পারি না। রেজিনগরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আজ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। আমরা আশাবাদী এই ফলাফল আমাদের পক্ষেই যাবে।”