বাংলাদেশ পাচারের পূর্বে উদ্ধার ৫১ টি মোবাইল, ধৃত ৩

বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ

মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগের তদন্তে নেমে পাচার চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ। ওই চক্রের তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কলকাতার বড়বাজার থানা এলাকার ঘটনা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে বড় বাজার থানায় একটি অভিযোগ জমা পড়ে এই মর্মে যে, মুর্শিদাবাদের এক ব্যবসায়ী বড়বাজার থেকে তাঁর প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে মোবাইলে কথা বলতে বলতে ভোররাতে ব্রাবোন রোড ধরে হাওড়া ব্রিজে ওঠার জন্য হাঁটছিলেন। কিন্তু ব্রিজে ওঠার পূর্বেই বাইকে চেপে এসে তাঁর হাত থেকে মোবাইলটা ছিনতাই করে চম্পট দেয় ছিনতাইকারীরা। এরপরই ওই ব্যাক্তি ঘটনার বিবরণ জানিয়ে বড়বাজার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বড়বাজার থানার ওসি পাপিন্দর সিং রনধওয়ারের নেতৃত্বে তদন্তে নামে পান্নালাল গুড়িয়া, রবীন্দ্র চৌধুরী ও আরশাদ আলী নামে তিন আধিকারিক। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুই ছিনতাইকারী ও বাইকটিকে শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর পুলিশের টিম একাধিক ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রথমে তিন জলা থেকে বাইকটি উদ্ধার করে। পুলিশের অনুমান, অভিযুক্তরা তিন জলা বা তপসিয়া এলাকার বাসিন্দা। সেই অনুৃানের ভিত্তিতে তপসিয়া থেকে মহম্মদ নাসিম ও তিনজলা থেকে আসিফ আলী ওরফে আশুকে গ্রেফতার করে। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দশটি মোবাইল উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, ধৃতরা দুজনেই মাদকাসক্ত। দুজন মিলে রাতে তপসিয়া ও তিন জলার বিভিন্ন জায়গা থেকে পুরনো চাবি দিয়ে বাইক চুরি করত। সেই চুরি করা বাইক নিয়েই কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় টহল দিয়ে লক্ষ্য করত কে মোবাইলে কথা বলতে বলতে পথ চলছে, আর রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েই বা কে মোবাইল ঘাঁটছে। এরপর বাইক নিয়ে সেইসব ব্যক্তির সামনে গিয়ে মোবাইলটা ছিনতাই করে প্রচন্ড গতিতে পালিয়ে যেত। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, ধৃতরা ছিনতাই করা মোবাইলগুলি তিন থেকে চার হাজার টাকায় সাগরকে বিক্রি করত। এরপরই বেনিয়াপুকুরে নাভেদ আনোয়ার ওরফে সাগরের ডেরায় হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকে আরও ৪১টি মোবাইল উদ্ধার করে। সাগর চুরি করা মোবাইলগুলি নাসিম, আসিফ সহ একাধিক ছিনতাইকারী ও চুরির গ্যাংয়ের কাছ থেকে কিনেছিল। এক একটি মোবাইল হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা লাভ রেখে আরও এক দালালের হাতে তুলে দিত সাগর। সেই মোবাইল পৌঁছে যেত সীমান্তের সিন্ডিকেটের হাতে। এরপর চোরা পথে সিন্ডিকেটের হাত ধরেই চুরি করা মোবাইলগুলি পৌঁছে যেত বাংলাদেশে। বাংলাদেশের সিন্ডিকেট আবার মোবাইল পিছু হাজার দশেক টাকায় কিনে প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করত বাংলাদেশের দোকানে। তবে বাংলাদেশে পাচার হওয়ার আগেই মোট ৫১ টি মোবাইল উদ্ধার করে বড়বাজার থানার পুলিশ। ওই মোবাইলগুলি কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে চুরি ও ছিনতাই করা হয়েছিল বলে জানায় পুলিশ। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ওই পাচারচক্রের বাকিদের সন্ধান চালানো হলেও, ঘটনা প্রসঙ্গে বাইকের মালিক কিছুই বলতে পারেননি বলে জানায় পুলিশ।