দুর্গাপুজোর আনন্দের সন্ধ্যা মুহূর্তে পরিণত হল শোকে। উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোয় পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় প্রাণ হারালেন হুগলির বৈদ্যবাটির তরুণী শ্রীপর্ণা পোদ্দার। পেশায় নার্স শ্রীপর্ণা টাটা ক্যানসার হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। সপ্তমীর দিন বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আনন্দযাত্রাই শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে উঠল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মণ্ডপের আশপাশে বিপুল ভিড়, বৃষ্টি এবং হুড়োহুড়ির মধ্যে দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শ্রীপর্ণার মৃত্যুসংবাদে বৈদ্যবাটির মালির বাগান এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছে পরিবার।
উৎসবের ভিড়ে মানুষের নিরাপত্তা, মণ্ডপে প্রবেশ ও বেরোনোর ব্যবস্থা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন আবারও সামনে এলো। আনন্দের উৎসব যেন কোনও পরিবারের কাছে এমন মর্মান্তিক স্মৃতি হয়ে না থাকে, সেই দায়িত্ব এখন প্রশাসন ও পুজো উদ্যোক্তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
----
১৭ অক্টোবর ২০২৬, মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোয় পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় প্রাণ হারালেন হুগলির বৈদ্যবাটির তরুণী শ্রীপর্ণা পোদ্দার। পুজোর আনন্দে বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে তাঁর আর বাড়ি ফেরা হল না। শ্রীপর্ণার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বৈদ্যবাটির মালির বাগান এলাকায়। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিলেন তিনি। পেশায় নার্স শ্রীপর্ণা কলকাতার টাটা ক্যানসার হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। প্রতিবেশীদের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন মিশুকে স্বভাবের মেয়ে হিসেবে, যিনি পাড়ায় কেউ অসুস্থ হলে সাহায্যের জন্য সবার আগে এগিয়ে আসতেন।
সপ্তমীর সকালে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা নিয়েই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন শ্রীপর্ণা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্ধুদের সঙ্গে উত্তর কলকাতার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপ ঘুরে সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনে পৌঁছেছিলেন তিনি। সকালে প্রতিবেশীকে একটি টোটো ডেকে দেওয়ার অনুরোধও করেছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। প্রবল বৃষ্টি এবং দর্শনার্থীদের বিপুল ভিড়ের চাপে পুজোমণ্ডপের আশপাশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হলে একাধিক মানুষ পড়ে যান। সেই পরিস্থিতিতেই পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিক সংবাদে আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়। পুলিশ সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ মণ্ডপের বেরোনোর পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সরু রাস্তা, অতিরিক্ত ভিড় এবং বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। তবে ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্তের বিষয়। দুর্ঘটনার পরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে উদ্ধারকাজে জোর দেওয়া হয়।
শ্রীপর্ণার মৃত্যুসংবাদ পৌঁছতেই তাঁর পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোক নেমে আসে। প্রতিবেশী হরিদাস চট্টোপাধ্যায় জানান, শ্রীপর্ণা অত্যন্ত মিশুকে ছিলেন এবং বিএসসি নার্সিং পাশ করে চাকরি করছিলেন। তাঁর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন রিম্পা দাস। তাঁর কথায়, সকালে শ্রীপর্ণা ঠাকুর দেখতে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। রাত ৯টা নাগাদ মৃত্যুসংবাদ পেয়ে তিনি বিশ্বাস করতে পারেননি। খবর পেয়ে চাপদানির বিধায়ক দিলীপ সিংও তাঁদের বাড়িতে যান। ততক্ষণে শ্রীপর্ণার বাবা-মা কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
এই দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেন। আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথাও জানানো হয়। অন্যদিকে, আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের আধিকারিকেরা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পৌঁছন। একটি উৎসবের সন্ধ্যা কীভাবে একটি পরিবারের কাছে চিরস্থায়ী শোকের কারণ হয়ে উঠল, শ্রীপর্ণার মৃত্যু সেই প্রশ্নই সামনে নিয়ে এলো।

মন্তব্য 0