*রবিবার সকালে SIR ইস্যুতে সাংবাদিক বৈঠক শুভেন্দু অধিকারীর, তৃণমূল-সিপিএম আঁতাতের অভিযোগ*

এস রোজলিন:কলকাতা: রবিবার সকালে সাংবাদিক বৈঠক করলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে SIR নিয়ে অপপ্রচার, তৃণমূল-সিপিএমের আঁতাত এবং জনগণের রায়কে অস্বীকার করার অভিযোগ তোলেন তিনি। মূলত SIR নিয়ে সম্প্রতি যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়েই ছিল এদিনের প্রেস কনফারেন্স। সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, SIR সংক্রান্ত যে সিদ্ধান্ত, তা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একার নয়। শনিবার নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ করা বৈঠকের ছবি তুলে ধরে তিনি জানান, বৈঠকের ছবি সবটা স্পষ্ট করে দিয়েছে। সেখানে দুই নির্বাচন কমিশনারের সম্মতিও ছিল।লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিতে পশ্চিমবঙ্গে ২৭ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার দায়ভার বিজেপি বা কমিশনের নয়, সে কথাও এদিন স্পষ্ট করে দেন তিনি। বলেন, ‘তৃণমূলের মামলার জেরে পশ্চিমবঙ্গে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করে সুপ্রিম কোর্ট। আর ২৭ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছিলেন জুডিশিয়াল অফিসাররাই।’
এদিন তৃণমূল এখনও জনাদেশ মানতে পারছে না বলেও অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তাঁর কটাক্ষ, যে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তৃণমূলের জন্ম, নাম-নিশান খুইয়ে সেই তৃণমূল এখন সিপিএমের সঙ্গেই সখ্যতার হাত বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘যে নির্বাচনে মানুষ আমাদের বিপুল ম্যান্ডেট দিয়েছে, সেই নির্বাচনের ফলাফলকেই অস্বীকার করার চেষ্টা হচ্ছে। SIR এবং নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়াকে নিয়ে এমন ভাবে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, যেন গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার উপরেই মানুষের আস্থা নষ্ট করা যায়।’
এ রাজ্যে SIR-এ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ প্রসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, পশ্চিমবঙ্গে SIR-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের মাধ্যমে একাধিক বিষয়ে শুনানি ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যে বিষয় নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেরাই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল, আদালতের নির্দেশে যে প্রক্রিয়া হয়েছে, আজ সেই বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়াকেই প্রশ্ন করা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। কেরালায় SIR ভালো, কারণ সেখানে রাজনৈতিক সমীকরণ অন্যরকম। আর পশ্চিমবঙ্গে SIR খারাপ— এই দ্বিচারিতা মানুষ বুঝতে পারছে।’
তৃণমূল-সিপিএম সম্পর্ক নিয়ে আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, ‘তৃণমূল-সিপিএমের ভালোবাসা, অথচ যে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল সিপিএমের অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য। সেই সিপিএমের সঙ্গে বিধানসভার ভিতর থেকে শুরু করে গতকাল ওদের সর্বভারতীয় সম্পাদকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলা, পত্রালাপ করা, যৌথ ভাবে আন্দোলন করতে হবে...। আমি বলব আপনারা যৌথ ভাবে কেরালায়ও আন্দোলন করুন। শুধু পশ্চিমবঙ্গ আর বিহারে কেন করবেন? কেরালায় রাহুল গান্ধী, এমএ বেবি আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন একসঙ্গে থাকবেন আশা করি।’
শনিবার শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সেখানে ১৫০ জন লোক হয়েছিল, পুলিশ ছিল ১৭০ জন। মিডিয়া, পুলিশ মিলিয়ে মেরেকেটে ৫০০ জন লোক হয়েছিল সেখানে। ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল যে দল, ৬ বারের সাংসদ ছিলেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর সভার এই হাল বুঝিয়ে দিচ্ছে তাঁর দলের জনভিত্তি কোথায়।
সবশেষে এআইটিসি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নাম বদলেছে, প্রতীক বদলেছে এবং দলও একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কাছে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে।’