এসএসকেএম-এ জাল ওপিডি টিকিট বানিয়ে প্রতারণা, ধৃত ৩
বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ
প্রতারকেরা নানান উপায় অবলম্বন করে জনসাধারণের সাথে প্রতারণা করে চলেছে প্রতিনিয়ত। স্বভাবতই নানান সমস্যার সম্মুখে পরে প্রতারিতরা। এসএসকেএম হাসপাতালে দালাল চক্রের সক্রিয়তা- এ নতুন কিছু নয়।ওই হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগী ও তাঁর পরিবারের লোকজনের সাথে প্রতারণা করার অভিযোগ উঠে আসতেই প্রকাশ্যে আসে দালাল চক্রের কান্ডকারখানা। পূর্বে একাধিক বার হাসপাতাল চত্বর থেকে দালাল ধরা পড়েছে। এবার আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। ডাক্তার দেখাতে আসা রোগীরা দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করে। এবার সেই সুযোগকে হাতিয়ার করেছে দালাল চক্র। কষ্ট করে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে না - এমন প্রলোভন দেখিয়ে জাল ওপিডি টিকিট বানিয়ে দিত দালালরা। হাসপাতালের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে ৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কলকাতার ভবানীপুর থানার অন্তর্গত এসএসকেএম অর্থাৎ পিজি হসপিটাল এর ঘটনা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এসএসকেএম হাসপাতালের এমএসভিপি পীযূষ কুমার রায় ভবানীপুর থানায় এই মর্মে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন যে, হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগী বা তাঁদের পরিজনেরা আউটডোর টিকিট কাউন্টারের লাইনে দাঁড়াতেন টিকিট সংগ্রহের জন্য। তাদের টার্গেট করা হত। ওপিডি টিকিট জাল করা হচ্ছে - এমনই অভিযোগ তুলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার ভবানীপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের সনাক্ত করে ভবানীপুর থানার পুলিশ। ওই জালিয়াতি চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই দিনই আসাদ আলী (২১), মোহাম্মদ সাদিক (২৪) ও ভিহিদ আহমেদ (৩৯) নামে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ভবানীপুর থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে দুজন হাওড়ার বাসিন্দা বলে জানায় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, চক্রের এক সদস্য প্রথমে এসএসকেএম এর বিভিন্ন ওপিডি-র লাইনে থাকা রোগী ও তাঁদের পরিজনদের টার্গেট করত। অর্থের বিনিময়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা ছাড়াই ওপিডি টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হত। এরপর রোগী বা তাঁর পরিজনকে এসএসকেএম লাগোয়া একটি জেরক্সের দোকানে নিয়ে যাওয়া হত।
কারও কাছে আধার কার্ড না থাকলে অন্য ব্যক্তির আধার নম্বর ব্যবহার করে সেখানেই তৈরি করা হত জাল ওপিডি টিকিট। সেই টিকিটকে আসল বলে রোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হত বলে দাবি পুলিশের। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই এসএসকেএম লাগোয়া ওই জেরক্স এর দোকানটি সিল করেছে পুলিশ। ধৃত তিনজনের মধ্যে একজন ওই জেরক্স এর দোকানের মালিক বলে জানায় পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার জালিয়াতি প্রতারণা এবং সাধারণ ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে ভবানীপুর থানার পুলিশ। পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে এই চক্রের পেছনে আর কে বা কারা কিভাবে জড়িত রয়েছে, আদৌ কেউ জড়িত কিনা এবং কতদিন যাবত তাঁরা ওই কারবার চালাচ্ছে, তা জানতে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেবার আবেদন জানিয়ে বৃহস্পতিবার আলিপুর থানার পক্ষ থেকে ধৃতদের আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক।

মন্তব্য 0